অতিমাত্রায় বায়ু দূষণে বাড়ছে অ্যাজমার প্রকোপ

স্টার বাংলা ডেস্ক: প্রতিদিন পাঁচশ মানুষ অ্যাজমা তথা শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে। গত বছরও এই সংখ্যা ছিল চারশ’। ছয়শ’ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৬৬৫ জন। প্রতিদিন বাড়ছে অ্যাজমা আক্রান্তের সংখ্যা। তাই আসন সংকুলান হচ্ছে না।

এমনটাই জানালেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সেরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, অ্যাজমা এখন আর শীতকালীন রোগ নয়। বায়ু দূষণের কারণে সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সেরাজুল ইসলাম জানান, রোগীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এই হাসপাতালকে দেড় হাজার শয্যায় উন্নীত করার জন্য ইতোমধ্যে আবেদনও করা হয়েছে। বায়ু দূষণ রোধে শিগগিরই জোরালো ব্যবস্থা না নিলে দেশে অ্যাজমা প্রকোপ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তিনি জানান, নারী-পুরুষ সমান হারে আক্রান্ত হচ্ছেন অ্যাজমায়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে। যদিও পঞ্চাশ শতাংশ শিশুর অ্যাজমা চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।

জাতীয়ভাবে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সংক্রান্ত কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে আন্তর্জাতিক ও হাসপাতালের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের আলোকে এই চিকিৎসক বলেন, দেশে প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ অ্যাজমায় আক্রান্ত। অর্থাৎ দেশের প্রায় (১৭ কোটি হিসেবে) এক কোটি ৩৬ লাখ মানুষ শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে ভুগছে। আক্রান্তের এই সংখ্যা ১০ শতাংশ অতিক্রম করলে অ্যাজমা মাহামারী হিসেবে গণ্য হবে।

শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় ধূসর পুরো রাজধানী। বায়ু দূষণের শিকার হয়ে প্রতিদিন শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নবজাতকের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জন নবজাতকই এখন অ্যাজমা বা শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানালেন শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, আক্রান্তের এই সূচক ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে রাজধানীতে ধুলা দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এখন সারাবছরই অ্যাজমায় আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী।

অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট ধুলা আর ফিটনেসহীন গাড়ির ধোঁয়াতেই মূলত দূষিত হচ্ছে রাজধানীর বাতাস, যোগ করেন ডা. লেলিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাবিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অ্যাজমা রোগে ভুগছেন। বাংলাদেশে এ সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগের ভয়াবহতা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক এবং শিশু ও শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মাঈনউদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে হাঁপানি মূলত একটি বংশগত রোগ। অথচ অতিমাত্রায় বায়ু দূষণের কারণে বংশে কারো এমন রোগ না থাকা সত্ত্বেও হাঁপানিতে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের দেশের শিশুরা।

তিনি বলেন, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড থেকে শুরু করে মার্কারি, লেডের মতো ভারী পদার্থ বাতাসে মিশে যাচ্ছে। এগুলো ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদরোগ, যকৃতের সমস্যা ও গর্ভবতী মায়েদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।