আইন মন্ত্রণালয় ছাড়তে হলো শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রীকে

আন্তজাতিক ডেস্ক: শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপাল সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে আইন-শৃঙ্খলা মন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। সারা দেশে জরুরী অবস্থার মধ্যেও দেশটির সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বুধবার বিক্রমসিংহকে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

শ্রীলংকার স্থানীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়, রনিল বিক্রমাসিংহের ইউনাইটেড পার্টিরই প্রবীণ নেতা রঞ্জিত মাডুমা বান্দারাকে পরে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিক্রমাসিংহে যে ১১ দিন আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ওই সময়ে ক্যান্ডি জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মুসলিমদের দোকানপাট ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে শ্রীলংকার বৌদ্ধরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করায় সেখানে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়।

বুধবার শ্রীলংকার সরকার দেশটিতে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়। এসব সাইটে মুসলিমদের উপর হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা মঙ্গলবার শ্রীলংকায় জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার ক্যান্ডিতে দিনের বেলা কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। সেখানে দাঙ্গায় এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এক বিবৃতিতে সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা ও জরুরী কাজ করার জন্য স্বল্প সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেয়ার আহ্বান জানালে সিরিসেনা সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করার নির্দেশ দেন।

শ্রীলংকার বিরোধীদলীয় নেতা আর সাম্পান্থান মুসলিমদের উপর হামলা চালানোর সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সংসদে তিনি এর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘মনে হচ্ছে মানুষ নিশ্চিত ছিল, তারা এমন কাজ করলেও আইনের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যাবে।’

ক্যান্ডি শ্রীলংকার দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। এক লাখ ২৫ হাজার মানুষের বসতিসহ অঞ্চলটিতে বহু মন্দির ও আশ্রম থাকায় সেটি বৌদ্ধদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

মার্চের ৪ তারিখে চারজন মুসলিমকে বহনকারী একটি ট্যাক্সির সাথে একজন বৌদ্ধ ড্রাইভারের ভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনায় সেই জেলায় উত্তেজনা শুরু হয়। ক্রমেই তা সহিংস আকার ধারণ করে এবং সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই বৌদ্ধ ড্রাইভারকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার পর তিনি হাসপাতালে মারা যান। অভিযুক্ত চারজন মুসলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা পুলিশের হেফাজতে আছে।