মিতালী মার্কেট সমিতির অবৈধ নির্বাচন বাতিলের দাবি

স্টার বাংলা নিউজ: ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীণ মিতালী মার্কেট দোকানদার সমিতির অবৈধ সকল নির্বাচনী কর্মকাণ্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সমিতির সদস্যরা। একইসাথে গত ৮মার্চ তারা (সদস্য) শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আজ রোববার বিকেলে জাতীয় ২৩বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আলাপকালে তারা এ দাবি জানান। এর আগে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর গত ৮মার্চ মিতালী মার্কেট দোকানদার সমিতির অবৈধ সকল নির্বাচনী কর্মকাণ্ড বাতিলের আবেদন জমা দেন সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাজী মো: জামান মিয়া। এরপর পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর এর পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল হক ৬টি ধারা উল্লেখ করে নির্বাচন সংক্লান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মহাপরিচালকের কাছে। এর ৬নাম্বার ধারায় উল্লেখ করা হয়, অধিদপ্তরের গঠিত কমিটি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে সরজমিনে পরিদর্শনে কাউকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও বার বার চেষ্টা করে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে গোপনে নির্বাচনী কাজ করায় নির্বাচন কমিশনার শামছুল ইসলাম ওরফে তানভীরকে মারধর করে মার্কেট থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে সমিতির সদস্যরা।
স্থানীয় প্রভাবশালী এক আওয়ামীলীগ নেতা সমিতির সদস্য না হয়েও সভাপতি প্রার্থী হয়ে তার অনুগতদের নিয়ে মনগড়া পকেট কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে ম্যানেজ করে ভোটার তালিকা গড়মিল, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া ও প্রহসন মূলক নির্বাচন করার পাঁয়তারা শুরু করায় এ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সমিতির অন্তর্ভুক্ত ৬ হাজার ২৩৬ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ভোটার করা হয়েছে ৫৫২ জনকে। যার মধ্যে সমিতির সদস্য নয় এমন লোকও রয়েছে বলে ক্ষোভের সাথে জানায় একাধিক সদস্য।
জানা গেছে, মিতালী মার্কেট দোকানদার সমিতির নেতা হওয়াকে কেন্দ্র করে দু‘টি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ও একাধিকবার সংঘর্ষ হলে তা আদালতে গড়ায়। মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন (নং-৫৪১৭/১৬) প্রদত্ত রায়ে অত্র সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গত বছরের ২২ অক্টোবর ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সে নির্দেশনা মোতাবেক শ্রম অধিদপ্তর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। আলহাজ্ব শামছুল ইসলাম (তানভীর) আহবায়ক, মো: বেলায়েত হোসেন সদস্য সচিব, মো: তনাই মোল্লা, হাজী এমদাদ আলী ও আলহাজ্ব হাবিবুর রহমানকে সদস্য করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নির্বাচন উপহার দিবে এটাই ছিল সকল সদস্যদের প্রত্যাশা।
দীর্ঘদিন ধরে সমিতির কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্বপালন কারী সদস্য মো: ফারুক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অতীতে সমিতির নির্বাচনে ৬ হাজার ২৩৬ জন সদস্য সবাই ভোটার ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আগামী ১০ মার্চ যে নির্বাচন হওয়ার দিন তারিখ ঠিক করা হয়েছে তাতে ভোটার হয়েছে মাত্র ৫৫২ জন। তিনি জানান, সমিতির সদস্য নয় এমন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সভাপতি হয়ে তার পছন্দের লোকদের নিয়ে প্রহসন মূলক নির্বাচনের নামে পকেট কমিটি গঠন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই এই গড়মিল ও অনিয়ম করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শামছুল আলম তানভীরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।