পাকিস্তান সফরে গেলেই গেইলরা পাবেন ২১ লাখ টাকা

স্টার বাংলা ডেস্ক: নিজেদের দেশে ক্রিকেট ফেরাতে কী না করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)! হেন কোনো পথ নেই, যেটাকে অনুসরণ করছে না তারা। ইতিমধ্যেই আংশিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিজেদের দেশে ফেরাতে পেরেছে তারা। গত বছর পিএসএলের ফাইনাল আয়োজনের পর লাহোরে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে আয়োজন করা হয়েছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলও লাহোরে এসে খেলে গেছে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করতে যাচ্ছে পিসিবি। ১, ২ ও ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এই তিনটি ম্যাচ। তবে এবার আর লাহোরে নয়, তিন ম্যাচের সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে করাচিতে। কিছুদিন আগেই এ তথ্য জানিয়ে দিয়েছে পিসিবি চেয়ারম্যান নাজম শেঠি।

তবে তিন ম্যাচের এই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের সেরা সেরা ক্রিকেটারদের দলে পেতে এক অভিনব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। যারা পাকিস্তানে খেলতে যাবে, তাদেরকে অতিরিক্ত ২৫ হাজার ডলার করে বোনাস দেয়া হবে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১ লাখ টাকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চুক্তিভুক্ত হোক বা চুক্তির বাইরে হোক- যে খেলোয়াড়ই পাকিস্তান খেলতে যাবে, তাদেরকে নিয়মিত পারিশ্রমিক, বোনাস কিংবা ম্যাচ ফি’র বাইরে এই অর্থ দেয়া হবে।

পাকিস্তান সফরের জন্য ১৩ সদস্যের স্কোয়াড এখনও ঘোষণা করেনি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট (সিডব্লিউআই)। চলতি বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব চলাকালিনই এই ঘোষণা আসতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ থেকে। তবে সিডব্লিউআই এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চয়তা দেয়নি কিংবা প্রত্যাখ্যানও করেনি। যদিও এ সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে এ খবর।

ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়েছে, চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যেখানেই তারা খেলতে যাবে সেখান সাধারণত যে পারিশ্রমিক পায় তারা তার চেয়ে ৭০ ভাগ বেশি পারিশ্রমিক পাবে এবং ম্যাচ ফি পাবে দ্বিগুণ। গত জানুয়ারিতে ঘোষিত সিডব্লিউআই-এর খেলেয়োড়দের সঙ্গে চুক্তিতে লেখা হয়েছে, যেসব খেলোয়াড় চুক্তিভুক্ত নন, তাদের মধ্যে যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারা যদি জাতীয় দলের হয়ে খেলেন তাহলে ম্যাচ প্রতি ১৭২৫ থেকে ৫০০০ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাবে। সঙ্গে ম্যাচ ফি পাবে নিয়মের চেয়ে দ্বিগুণ।

তবে পাকিস্তান সফরের জন্য অতিরিক্ত জনপ্রতি ২৫ হাজার ডলারের যে বোনাস ঘোষণা হচ্ছে, সেটা কিন্তু সিডব্লিউআই নিজেদের পকেট থেকে দিচ্ছে না। এই টাকা পরিশোধ করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। নিজেদের দেশে সফর করার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে এই পরিমাণ অর্থ অনুদান দিচ্ছে তারা। যদিও শর্ত হলো, যে অর্থ তারা সিডব্লিউআইকে দেবে, তা ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহার করার অর্থ, ক্রিকেটারদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।

সিডব্লিউআইকে পিসিবির এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেয়ার একটাই কারণ, এই সফরটা হতে যাচ্ছে আইসিসির এফটিপির বাইরে হওয়ার কারণে। পিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নন-এফটিপি সিরিজের জন্য এই মানের অর্থ আমরা দিয়ে থাকি সফরকারী দলেকে।

সিডব্লিউআই প্রধান নির্বাহী জন গ্রেভ ক্রিকইনফোকে বলেন, ‘পাকিস্তান চায়, নিজেদের মাটিতে অনেক বেশি ক্রিকেট খেলার জন্য। এর মধ্যে রয়েছে আগামী বছর পিএসএলের প্রায় অর্ধেক ম্যাচ হবে পাকিস্তানে। সঙ্গে আগামী দিনের এফটিপিতে থাকা সিরিজগুলোর ম্যাচও নিজেদের মাঠে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।’

সিডব্লিউআই প্রধান নির্বাহী গ্রেভ মনে করেন, ‘যতই হোক, পিএসএলে খেলা কিংবা আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্য এভাবে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যায় করার সংস্কৃতি পাকিস্তান ধরে রাখতে পারবে না। সুতরাং, এফটিপির বাইরে থাকা এই সিরিজের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আমাদেরকে যে অর্থ দিচ্ছে, আমরা চাচ্ছি এই অর্থটা পুরোপুরি কাজে লাগাতে। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই সিরিজ থেকে টাকা আয় করতে যাচ্ছে না। তারা যাচ্ছে শুধুমাত্র, পাকিস্তান যে নিজেদের দেশে ক্রিকেট ফেরাতে চায়, তাতে সমর্থন জানাতে।’

২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের ওপর হামলার পর থেকে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নির্বাসিত। এরপর নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে কম চেষ্টা করেনি পাকিস্তান। ২০১৫ সালে প্রথম দেশটিতে খেলতে যায় জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। সে সময় জিম্বাবুয়ের প্রতিটি ক্রিকেটারকে ১২৫০০ ডলার করে দিয়েছিল পিসিবি।

এরপর গত বছর লাহোরে পিএসএলের ফাইনাল খেলার জন্য বিদেশি ক্রিকেটারদের বিশাল অংকের অর্থ দিয়েছিল তারা। বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ব-একাদশ যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে গিয়েছিল, সেখানেও বিশাল পরিমাণে অর্থ ব্যায় করেছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের জন্যও থাকছে বড় বোনাস। শুধুমাত্র শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল যে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল, সেখানে টাকা ব্যায় করেনি পাকিস্তান। কারণ, সেখানে শ্রীলঙ্কার অধিকাংশ নিয়মিত ক্রিকেটার অংশ নেননি। তারওপর ওটা ছিল আইসিসির নিয়মিত ট্যুর প্ল্যানের (এফটিপি) অংশ।