শিগগির শুরু মংলা-রামপাল-বাগেরহাট সড়কের কাজ

স্টার বাংলা ডেস্ক: মংলা বন্দরের সাথে পাশের রামপাল উপজেলা হয়ে জেলা সদর বাগেরহাটে যাওয়ার সংযোগ সড়কের ১৩ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ শিগগির শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ।

তিনি শুক্রবার মোবাইল ফোনে বলেন, বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় মংলা-রামপাল-বাগেরহাট সড়কের ১৩ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমরা শুরু হবে এ সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজ।

নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, আমরা এ সড়কের রামপাল অংশ সংস্কারের জন্যে ৫০ লক্ষ টাকার কার্যাদেশ দিয়েছি। আগামী কিছু দিনের মধ্যে সেই অংশের সংস্কার কাজ শুরু হবে। মংলা অংশের সংস্কারের জন্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক ১ কোটি টাকা ছাড় করিয়েছেন। এই টাকার দরপত্র আহ্বান করে আগামী এক/দুই মাসের মধ্যে সংস্কারের কাজ শুরু করার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

তিনি বলেন, রামপাল নদীতে ফেরিসহ এই পুরো সড়ক নতুন করে নির্মাণের জন্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও দিয়ে ২৭৫ কোটি টাকার একটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলা শহর (দশ আনির মোড়) থেকে রামপাল উপজেলা হয়ে মংলা উপজেলা পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি ৩৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই সড়কের ১৩ কিলোমিটার রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে এই রাস্তার সংস্কার করা হয়। গত চার বছরে আর কোনো সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০১৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর থেকে এই সড়কের সংস্কারের দায়িত্ব তাদের। এর আগে সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের মংলা পৌরসভার কুমারখালী এলাকা থেকে শুরু করে রামপালের পেড়িখালী বাজার পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। এরমধ্যে কুমারখালী ও উত্তর চাঁদপাই এলাকার পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ। রাস্তার বিভিন্ন অংশে অনেক ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও বিটুমিন উঠে মাটির রাস্তার মতো হয়ে গিয়েছে। বড় বড় গর্ত অতিক্রম করতে সব ধরনের যানবাহনকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। যানবাহনগুলো চলাচলের সময় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের উপর পড়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খাচ্ছে।
মংলা থেকে পেড়িখালী বাজারে চলাচলকারী অটো ভ্যানের মালিক মহারাজ মীর, মোটরসাইকেল চালক সুলতান, ভ্যানচালক ইস্কেন্দার, সিদ্দিক জানান, প্রতিদিন সড়কের কোথাও না কোথাও নুতন নুতন গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও লম্বালম্বি ধ্বসে নিচু হয়ে গেছে। চার বছর ধরে সংস্কার না করায় ছোট গর্তগুলো বিরাট গর্তের আকার নিয়েছে। জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়লেও সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশিলষ্টদের যেন কারোরই যেন কিছু করার নেই।

উত্তর চাঁদপাই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সত্তার ইজারদার বলেন, এই পথে মংলা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ও রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের দশ সহস্রাধিক জনগণ মংলা বন্দর পৌরসভা ও বাগেরহাট সদরে নিয়মিত যাতায়াত করে। অসুস্থ ও নারী-শিশুদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কে চলতে গিয়ে গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যাওয়া, গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়া তো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

মংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, এ সড়কের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সড়ক সংস্কারের জন্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অসংখ্যবার অনুরোধ জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমাকে এলাকার জনগণের ভোগান্তির জন্যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ সঠিকভাবে সংস্কার করুক।