সুষ্ঠু ভোট হলে ইতিহাস সৃষ্টি করবে লাঙ্গল:আসুদ

স্টার বাংলা নিউজ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ। তিনি বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয় এবং পরবর্তী উপনির্বাচনে সুন্দরগঞ্জ বিজয় ও নাসিরনগরে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৩৫ হাজার ভোট জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রমাণ করে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে একান্ত আলাপচারিতায় এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি এমন দাবি করেন। এ সময় সরকারের সফলতা-ব্যর্থতাসহ এরশাদ জমানার উন্নয়ন এবং ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচিত হলে কি উন্নয়ন করবেন তা তুলে ধরেন তিনি।

মীর আবদুস সবুর আসুদ বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি নিরাপদ নয়, আবার বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ নিরাপদ নয়। কিন্তু পল্লীবন্ধু এরশাদের কাছে সবাই নিরাপদ। এরশাদের শাসনামলে খুন, গুম, ধর্ষণ, ব্যাংক লুট, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য ছিল না। ছিল না দুর্নীতি দুঃশাসন। বাজারে দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিল। নিত্যপণ্যসহ ফলমূলে ফরমালিন ছিল না। ছিল শান্তি, ছিল দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন। যা মানুষ আজ উপলব্ধি করে আজ আবারো পল্লীবন্ধুর শাসনামলে ফিরে যেতে যায়। তাকে আবারো রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে যায়। এ সময় তিনি এরশাদ শাসনামলের সেতু, রাস্তাঘাট, ইউনিয়ন, উপজেলা সংযোগ সড়ক আরো অনেক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষ শান্তি চায়, স্বস্তি চায়। সুবিচার চায়। সুখ চায়। জীবনের নিরাপত্তা চায়। বাঁচার মতো বাঁচতে চায়। উন্নয়ন অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান চায়। মায়ের পেটে ও কোলের শিশুর নিরাপত্তা চায়। মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষার নিরাপত্তা চায়। গণতন্ত্র চায়। দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চায়। সুশাসন চায়। আসুদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বিশ্ব জননন্দিত ও বারবার কারাবন্দি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে জানিয়ে বলেন, মানুষ মনে করে পল্লীবন্ধু আবারো ক্ষমতায় এলে মানুষের মুক্তি নিশ্চিত হবে।

গণমাধ্যমে টকশো খ্যাত অনুষ্ঠানের পরিচিত (সাংবাদিক) মুখ আসুদ তার নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে বলেন, ঢাকা-৫ আসনে এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ও এরশাদ শাসনামলের উন্নয়নের কারণে সুবিধায় রয়েছি। এই এলাকায় এরশাদ জনপদ, মুক্তিসরণি, ডিএনডি প্রতিরক্ষা বাঁধ, সায়েদাবাদ টার্মিনাল, স্টেডিয়াম, পানি শোধনাগার, সৈয়দ ফারুক সড়ক ও দোলাইপাড় সড়ক, গ্যাস, বিদুৎ সংযোগ, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মন্দির, হাটবাজারসহ সর্বোপরি এরশাদ আমলের উন্নয়ন সুশাসন ও সংস্কারের কারণে সুবিধায় আছি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর সাংগঠনিকভাবে অগোছালো বিএনপির কারণে এ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছি।

সাবেক এই ফুটবল তারকা আসুদ বলেন, গত নির্বাচনে এরশাদের মনোনয়ন পেয়েও পরবর্তী সময়ে সমঝোতার কারণে প্রত্যাহার করি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পার্টিসহ দলের প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনকে চাঙ্গা করছি। অনেকটা আগে-ভাগেই নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকায় ব্যাপক পোস্টারিং করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, পার্টি জোটগত নির্বাচন করলে অন্যান্য আসনের সঙ্গে এই আসনটিও পার্টির চেয়ারম্যান চাইবেন ইনশাল্লাহ। জাতীয় পার্টি জোটগত নির্বাচন না করে এককভাবে নির্বাচন করলেও দুই বড় দলের নানা সংকটের কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন বলেও আসুদ জানান।

নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মীর আসুদ বলেন, গত তিন-চার বছর ধরে মাঠ গুছাচ্ছি। কর্মিসভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছি। নেতাকর্মীরা নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়েছেন। বাবা মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মীর আবদুর রাজ্জাক এলাকার বহু মানুষকে চাকরি দিয়েছেন জানিয়ে এরশাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমার এলাকায় অনেকের লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা করে দিয়েছেন বাবা। মা মরহুমা সালমা খাতুন গরিব-অসহায় নারীদের বিবাহসহ নানান অসুবিধায় পাশে ছিলেন। দাদা-দাদি, বড় মা, বড় বাবা এলাকায় স্কুল, মসজিদসহ নানান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। বংশপরম্পরায় আমি ও আমার স্ত্রী এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।

গণসংযোগের মধ্য দিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন জানিয়ে আসুদ বলেন, দলের পক্ষ থেকেও আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ চালাতে বলা হয়েছে। ভৌগলিকভাবে আমার নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মাতুয়াইল ইউনিয়নে আমার বাড়ি। তার উত্তরে ডেমরা ইউনিয়ন, পূর্বে সারুলিয়া ইউনিয়ন ও পশ্চিম-দক্ষিণে ধনিয়া ইউনিয়ন। এখানে ভোটের সংখ্যা চার লাখ ২৫ হাজার। মোট ভোটের ৮৫ শতাংশ এই এলাকার। অতীতে এই এলাকা থেকেই প্রার্থীরা নির্বাচনে সহজে জয়লাভ করতে পেরেছেন। কিন্তু তারা জনগণের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করেননি। আসুদ বলেন, আমি আশা করি এই এলাকায় এমপি নির্বাচিত হলে ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেব। জলজট ও যানজট নিরসন করব। নিরক্ষতা দূর করব। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। নারী ও শিশু সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। সুশাসন কায়েম করব। অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিহার, মাদকাসক্ত দূর করব। সর্বস্তরের উন্নয়ন করব। অসহায় নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকব।

আসুদ জানান, শুধু নেতা হতে আসিনি। এলাকার সন্তান হয়ে সবার মুখে হাঁসি ফুটাতে চাই। যেখানেই যাচ্ছি অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। তারা কথা দিচ্ছে, ’৮৬ এবং ’৮৮ সালে জাতীয় পার্টির এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে পল্লীবন্ধু এরশাদকে আবারো উন্নয়ন এবং সুশাসনের সুযোগ দেবে। মীর আসুদ বলেন, অতীতে যেভাবে আমার পূর্বপুরুষরা এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন, আমি, আমার স্ত্রী ও সন্তানরা এলাকাবাসীর কাছে থাকব, পাশে থাকব, ইনশাল্লাহ।