আইপিএলের মূল্যবান ব্যর্থদের তালিকায় মাশরাফী!

স্টার বাংলা ডেস্ক: বলা হয় টাকার খেলা আইপিএল। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি-টুয়েন্টি আসরে প্রতিটি মিনিটে যেন হিসেব হয় কোটি টাকার অঙ্ক। মূল চরিত্র যারা সেই ক্রিকেটাররা তো এক আসর খেলেই হয়ে যান কোটিপতি। তবে চড়ামূল্যে কোনো দলে নাম লিখিয়ে ব্যর্থতার উদাহরণও আছে। এরকম সেরা পাঁচ ব্যর্থ তারকার গল্প নিয়েই এই আয়োজন।

যুবরাজ সিং, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (২০১৫)

আগের মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙালুরুর কাছ থেকে পেয়েছিলেন ১৪ কোটি ভারতীয় রুপি। ২০১৫ সালে আরো দুই কোটি রুপি বেশি দিয়ে তাকে কিনে নিয়েছিল দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। কিন্তু নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি যুবরাজ। ১৪ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ২৪৮ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৫৭। সব মিলে আসরে ৯ ওভার বল করে ১ উইকেট পেয়েছিলেন ৭২ রান খরচায়।

টাইমাল মিলস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙালুরু (২০১৭)

যুবরাজ সিংয়ের পর নিশ্চিতভাবেই এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে যিনি জায়গা পাবেন তার নাম টাইমাল মিলস। ২০১৭ সালে ইংলিশ এই পেসারকে ১২ কোটি রুপিতে কিনেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙালুরু। ২০১৭ সালের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে দারুণ পারফর্ম করেছিলেন মিলস। কিন্তু যে আশায় তাকে কিনেছিল বেঙালুরু, তা পূরণ হয়নি। ৫ ম্যাচ খেলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মিলস। ইকোনোমি ছিল ৮.৫, গড় ৩০।

পবন নেগি, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (২০১৬)

আগের মৌসুমটা চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে দারুণ খেলেছিলেন। মূলত বোলার হলেও সেবার লোয়ার অর্ডারে দাম পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তাই ৮.৫ কোটি ভারতীয় রুপিতে তাকে কিনে নেয় দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। সে বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডেও সুযোগ পেয়েছিলেন নেগি। কিন্তু আইপিএলে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ৮ ম্যাচ খেলে ৫৭ রান করেছিলেন। বল হাতে নিয়েছিলেন মাত্র ১ উইকেট।

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, কলকাতা নাইট রাইডার্স (২০০৯)

৬ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে তখনকার অন্যতম পেস তারকা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে কিনে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু বাংলাদেশি তারকাকে ম্যাচের পর ম্যাচ মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখছিল দলটি। শেষ দিকে যখন নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামলেন মাশরাফী, সেই ম্যাচই হয়ে থাকল তার শেষ আইপিএল ম্যাচ। ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ২ রানে অপরাজিত ছিলেন। বল হাতে ৪ ওভারে খরচ করেন ৫৮ রান। মাশরাফীর করা শেষ ওভারে ২১ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় তখনকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ডেকান চার্জার্স।

মোহম্মদ আসিফ, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (২০০৮)

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে যারা আইপিএলে খেলেছিলেন তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আসিফ অন্যতম। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে ৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যে তাকে কিনে নেয় দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। কিন্তু পারফরম্যান্সে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। বেঞ্চে ঠাঁই হওয়ার আগে ৮ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। মোট ৩২ ওভার বল করে খরচ করেছিলেন ২৯৬ রান।