ছাত্রলীগ ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের সঙ্গে পরিচিত নয়

স্টার বাংলা নিউজ: ছাত্রলীগ ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের সাথে পরিচিত নয়, এটা গুজব বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ। আগামী ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি তুলে ধরতে আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ছাত্রলীগ সভাপতির কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল-অভিযোগ আছে, সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত হয়। আসন্ন সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কি সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নেতৃত্ব তৈরি হবে নাকি অন্য পন্থায়? জবাবে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগ ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের সাথে পরিচিত নয়। সিন্ডিকেট শব্দটি ব্যবহার হয় কেবল মাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে। দেশরত্ম শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড ছাত্রলীগের কর্মকান্ডকে বির্তকিত করতেই এই সিন্ডিকেট শব্দটি ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা গোষ্ঠি। ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক দেশরত্ম শেখ হাসিনা। তার নিদের্শেই ছাত্রলীগ পরিচালিত হয়। তিনি যে নির্দেশ দেন ছাত্রলীগ তা বাস্তবায়ন করে। দেশরত্ম শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীর নেতৃত্ব তৈরি হবে। এই নেতৃত্বই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ছাত্রলীগ সিন্ডিকেট শব্দের সাথে পরিচিতও নয় আর পরিচালিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আগামী ১১ মে বিকাল ৩টায় সম্মেলন শুরু হবে। প্রথমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট, প্রধানমন্ত্রীর দিকনিদের্শনামুলক বক্তৃতার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর সংগঠনের অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রস্তুৃতি গ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সম্মেলন স্থলে আসতে চারটি প্রবেশপথ রাখা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, আমরা কতটুকু সফল বা ব্যর্থ তার নির্ণয় করার দায়িত্ব সারাদেশের ছাত্র সমাজের, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ছাত্রলীগ কর্মীদের। আর গণমাধ্যমের বন্ধুদের। তবে আমরা আন্তরিকতা কোন ক্রটি রাখিনি। নিজের জন্য কোন সময় ব্যয় করিনি। সংগঠনের কাজেই সময় ব্যয় করেছি। সফলতা হওয়ার জন্যই কাজ করছি। তিনি বলেন, আসন্ন সম্মেলন ইতিহাসের সেরা সম্মেলন হবে। দুদিন ব্যাপী এই সম্মেলনে সারাদেশ থেকে লক্ষাধিক ছাত্রনেতা অংশ নেবেন। কেমন নেতৃত্ব আসবে ছাত্রলীগে? জবাবে সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ভাল কর্মীর পাশাপাশি মেধাবী ছাত্র। ক্লিন ইমেজ, দলের প্রতি কমিটেড, যার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে, যিনি সংগঠনকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এসময় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, যাকে দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন হবে, যিনি মেধাবী, পরিশ্রমী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস তাকেই নেতা বানানো হবে। ছাত্রলীগে শিবির ও অনুপ্রবেশকারীর অভিযোগ রয়েছে-আপনারা কি মনে করেন? এর জবাবে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, এটা কারো বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ঠ অভিযোগ থাকলে তা করতে পারেন-কিন্তু ঢালাও ভাবে এটা বলা ঠিক না। কারণ আমরা যখন কমিটি করি তখন যাচাই-বাছাই করেই কমিটি করি। তিনি বলেন, কমিটি দেয়ার আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মুরব্বী নেতাদের সাথে আলাপ করেই কমিটি গঠন করি। এ সময় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তেজগাও কলেজ, চট্রগ্রাম মহানগর উত্তরসহ বেশ কয়েকটি কমিটির উদাহরণ দিয়ে বলেন, মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে বলেই আমরা তাকে নেতা বানিয়েছি। একজন ত্যাগী কর্মীদের প্রতি অন্যায় আমরা মেনে নিতে পারি না। যাচাই-বাছাই করেই কমিটি দেই। কাজেই অভিযোগগুলো সঠিক না। তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সে কারণে অনেক জেলায় সম্মেলন করা হলেও কমিটি দিতে দেরি হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী এনায়েত, এম আমিনুল ইসলাম, মেহেদী হাসান রনি, দফতর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, জগন্নাথ বিশ্বািবদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতারা।